লেখিকা- জোৎস্না জরি
.
ট্রেনটা চলছে দুলে দুলে। তিতাসের পাঠানো চিঠিগুলো যেন অনেক বেশি জীবন্ত… ভেসে উঠছে। উঠছে না উড়ছে। প্রত্যেক বর্ণ চোখের সামনে জীবনের মতো পরিষ্কার।
প্ৰিয় তিন্নি,
আমার নাম তিতাস। তিতাস একটা নদীর নাম। নাম না জীবন। জীবন না তুমি।
আমার কন্ঠস্বর তোমাকে টানে। তাই বুঝি ? একথা জানার পর আমার কি করা উচিত! সেই ফেলে আসা গান চৰ্চা আবার শুরু করেছি।
নগ্ন ছবি আমার আঁকার বিষয়বস্তু। তুমি জানতে চেয়েছিলে… কারণটা কি। হ্যাঁ , আমি এখন অবলীলায় বলতে পারি, জন্মক্ষণে আমরা নগ্ন… সৃষ্টির মুহূর্তেও নগ্ন। মাঝের সময়টুকু রাখা ঢাকা সভ্যতার স্ট্যাম্প।
তোমার বিষয় হিস্ট্রি। আমার বিষয় বাংলা। তবে তুমি আঁকতে ভালোবাসা, আমিও তাই। দুজনের মিলের জায়গাটা একেবারে এক… এক এক্কে এক। মাঠের সবুজ ছোঁয়া তোমার ছবিতে পাই নি ; খুঁজে পেয়েছি মরুভূমির হাহাকার। একটা নারী হৃদয়ের আর্তনাদ। কতটুকু অনুভূতি গাঢ় হলে ছবিকে বোঝা যায়, ছোঁয়া যায়… বলে দিও।
তোমার নগ্ন মরুভূমিতে হেঁটে যেতে ইচ্ছে করে… তোমার হাত ধরে। বাউল বাতাস যখন অনাচান করে খেলে যায় মাঠে, আমার মনটা হু হু করে ওঠে। এক সীমাহীন খোলা আকাশ তখন তোমার মায়াময় চোখে।
তুমি দেখেছ চৈত্রের রুক্ষতা , তারপরেই নেমে আসে কালবোশেখি। নিজে কি অনুভব করেছ… তুমি কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি… টাপুর টুপুর বৃষ্টি। যে কথা সকালের আলোয় লজ্জা পায়, যে ব্যথা বিকেলের আলোয় ম্রিয়মান… সেই কথা আর সেই ব্যথা মধ্যরাতের বিছানায় নতুন ছবি হয়। হতে পারে যদি দুটো হৃদয় কাছাকাছি আসে… দুটো শরীর একেবারে মিশে যায়। একে কি অদ্বৈত বলে !

(পর্ব – ২)